Showing posts with label হাচিকোপুরাণ. Show all posts
Showing posts with label হাচিকোপুরাণ. Show all posts

Friday, 6 April 2018

হাচিকোপুরান/পর্ব ২/ হাচিকোর দোলযাত্রা (২)

হাচিঃ দাঁড়া, টুকে নিই। এঁ ড়ে ত র্ক। হ্যাঁ হয়েছে। পরে ভাইপোর সাথে কথা কইতে গেলে এই কথাটা চালিয়ে দেওয়া যাবে। বড্ড তক্ক করে কথায় কথায়। ও হ্যাঁ, ওই গরমকালে তরমুজ চোষার কথাটা ভাইপোর কানে তুলিসনি যেন।  অসভ্যের মতন দাঁত দেখিয়ে হাসবে। বড় ত্যাঁদড় হয়েছে দিন দিন মায়ের আশকারায়। এই, এঁড়েতর্ক মানেটা কি রে? এঁড়ে বাছুরের মত তর্ক করা?

দিদিঃ আমি জানি না যা, এঁড়ে বাছুরের মতন তর্ক করা না আনাড়ির মতন তর্ক করা। আমার মা বলে তাই আমিও বললাম।

হাচিঃ খি খি খি খি......তার মানে, তুইও তোর মায়ের সাথে এঁড়েতক্ক করিস। তাই তোর মা বলে। তুই আবার আমায় বলছিস আমি এঁড়েতক্ক করছি। আবার এঁড়েতক্কর মানেও জানিসনা ঠিক করে। আবার আমায় বলিস, আমি কথার মানে না জেনে কথা বলি। তোরা দুপেয়ে মানুষগুলো মাঝে মাঝে দেখাস মাইরি। এই যাহহ, সরি, আবার মাইরি বলে ফেললুম।

আচ্ছা যাক গে যাক চটছিস কেন? আমি তো এমনি বলছিলুম। শোন না, তুইতো আমার মিষ্টি দিদি। আয় একটু কানটা চেটে দিই।

দিদিঃ কেন? এখন কেন? নিশ্চয়ই কিছু মতলব আছে। বাঁদর কোথাকার।

হাচিঃ ওহো, এখনো ঠিক করতে পারলি না আমায় বাঁদর বলবি, না ছাগল বলবি, না গাধা বলবি। কুকুর কিন্তু আমি মোটেও নই বলে দিলুম। আমি দুপেয়ে মানুষ।

(হঠাৎ উদাস হয়ে গিয়ে) যাক আর তক্ক করলুম না। ছেড়ে দিলুম। আজ এমন রঙিন দিন।

দিদিঃ তোর মতলবটা কি বলতো হাচি। হঠাৎ এত উদার হয়ে গেলি?

হাচিঃ ইয়ে মানে বলি? বল?

দিদিঃ ভ্যানতারা বাদে আবেদনাদি নিবেদিত হোক।

হাচিঃ ইয়ে, বলছি কি, ওই রঙ খেলার সাথে যে মিষ্টিগুলো খাচ্ছিলো ওরা, তার চাট্টি হবে নাকি রে?

দিদিঃ তাই বলো,খাওয়া ছাড়া এতো ভ্যানতারা তো করবে না। তোমায় আমি চিনি না।

হাচিঃ হেঁহেঁ, আছে নাকি রে?

দিদিঃ আছে দাঁড়া। কিন্তু তার জন্যে কিন্তু একটু আবীর মাখতে হবে। দোলের দিন আবীর মাখিয়ে তবে মিষ্টিমুখ করাতে হয়।

হাচিঃ আবীর? আবীর মানে? আচ্ছা বাদ দে। আবীর না কি বললি ওটা নিয়ে যা করার করে চটপট মিষ্টিটা দে দিকিন। খাবার কথা উঠলে আমি আবার লেজটা থামিয়ে রাখতে পারি না। আপনা থেকেই ঝড়ের মত দুলতে থাকে। দেখ না কিছুতেই থামাতে পারছি না। দে দে।

দিদিঃ দিচ্ছি দাঁড়া না রে হ্যাংলেশ্বরের মরণ। আগে আবীরটা দিয়ে নিই কপালে? কোন রংটা লাগাব বল? লাল আছে, সবুজ আছে, গেরুয়া আছে, হলুদ আছে, গোলাপী আছে।

হাচিঃ আরে ধুর সব গুলিয়ে দিলি আবার। কোন রংটা লাগালে বেশি মিষ্টি দিবি? নালে ঝোলে একাক্কার এখন, এরমধ্যে এই রঙ, সেই রঙ। যে রঙ এ বেশি মিষ্টি সেটাই দে।

দিদিঃ বেশি কম কোথাও নেই। একটাই পাবে যে কোনো রঙ এই। কোন রংটা পছন্দ বল।

হাচিঃ ধুর ছাতা, দেনা যা খুশি একটা। সবেতেই যখন একটাই মিষ্টি পাব তখন আর পছন্দ অপছন্দ কি? মিষ্টিটা শুধু দে তাড়াতাড়ি।

অতঃপর হাচিকো তার কালো কপাল আর সুঁচালো কালো নাকের উপর বৃহৎ একখানি হলুদ টিকা লইয়া গুজিয়া ভক্ষন করিতে লাগিল।

Monday, 2 April 2018

হাচিকোপুরান/পর্ব-২/হাচিকোর দোলযাত্রা

দোলের দিন বৈকাল, হাচি আসিয়াছে দিদির বাড়ি-

দিদিঃ হ্যাঁ রে হাচি, সবাই রঙ খেললো তোকে কেউ রঙ দিলো না একটুও?

হাচিঃ না না। ওসব রঙ মাখামাখির মধ্যে আমি নেই। হ্যাঁ তবে ওই রঙের সাথে মিষ্টি মিষ্টি কিসব খাচ্ছিলো দেখলুম, ওটা বেশ ভাল ছিল।

দিদিঃ কি, ও গুজিয়া? তুই খেলি বুঝি? কে দিলো?

হাচিঃ এঁহ, কে আবার দেবে? তোরা যেন আমার জন্যে মিষ্টির দোকান খুলে বসে আছিস? টেবিলের নিচে একটা পড়ে গেছিল, তা গুঁড়ি মেরে টেবিলের তলায় ঢুকে একটা কামড় বসিয়েছি কি বসাইনি, ছিটেলগুলো জলের বালতি নিয়ে তাড়া করলো মাইরি!

দিদিঃ জলের বালতি? ধুর গাধা, রঙের বালতি বল। আর হ্যাঁ, কতবার তোকে বলেছি এসব মাইরি টাইরি বলবি না আমার সামনে। আমার ভাল্লাগেনা।

হাচিঃ কেন বললে কি হয়? মাইরি মানে কি রে?

দিদিঃ তুই মানে না জেনেই বেতালার মতন কথাটা বলে যাচ্ছিস? বলতে বারণ করছি বলবিনা ব্যস। আচ্ছা বেয়াদব কুকুর তো।

হাচিঃ আবার? আবার কুকুর বলছিস আমায়? আমি কুকুর?

দিদিঃ কুকুর না তো কি তুমি? ছাগল কোথাকার।

হাচিঃ উফ এই জন্যেই বলি তোদের এই দুপেয়ে মানুষগুলোর মাথার ঠিক নেই। পিত্তের দোষ, সব পিত্তের দোষ। আগে  ঠিক কর আমায় কুকুর বলবি না ছাগল। যদিও কোনোটাই আমি নই।

দিদিঃ তবে তুমি কি? গাধা কোথাকার।

হাচিঃ অই দেখ! সাধে বলছি পিত্তের দোষ। আমি হলুম গে চারপেয়ে মানুষ।

দিদিঃ হ্যাঁ রে গাধা! তবে পেছনে ওই কালো লম্বা পানা ওটি কি? খাবারের গন্ধেই নড়তে থাকে?

হাচিঃ ওটিই তো তোর সাথে আমার তফারেন্স। তোর নেই আমার আছে। দুপেয়ে মানুষদের থাকে না। চারপেয়ে মানুষদের থাকে। বুঝলি?

দিদিঃ এই দাঁড়া দাঁড়া দাঁড়া দাঁড়া দাঁড়া!  কি বললি?

হাচিঃ (ঘাবড়ে গিয়ে) কি বললুম আবার?

দিদিঃ তোর সাথে আমার কী?

হাচিঃ কি?

দিদিঃ তোর সাথে আমার কী বললি?

হাচিঃ অ, ওইটা? 'তফারেন্স'। মানে বুঝলি না তো? কিই যে পড়াশুনা শিখেছিস? কিছুই তো জানিস না।  তফারেন্স মানে হল তফাৎ,  ডিফারেন্স। 

দিদিঃ মানে টা কি? তুই একটা শব্দের অর্ধেকটা বাংলা আর অর্ধেকটা ইংরাজি করে বলবি? আবার বলবি আমি পড়াশুনা জানি না! আশ্চর্য তো!

হাচিঃ কেন হবে না কেন? সবকটা দুপেয়ে কে দেখি, অর্ধেকটা বাংলা আর অর্ধেকটা ইংরাজি মিশিয়ে কথা বলে। তুই ও তো বলিস- "বোরড লাগছে রে হাচি"(ভেঙচিয়ে), বলিস না? বল সত্যি কথা। কেন 'মনখারাপ করছে' বলতে পারিস না? আর আমি বললেই দোষ?

দিদিঃ দুটো ব্যাপার এক নয়। তুই ওরকম একটা শব্দে দুটো ভাষা মেশাতে পারবিনা ব্যস।

হাচিঃ আরে সেটাই তো শুধুচ্ছি রে ছিটেল কোথাকার। কেন? কেন পারব না? একটা বাক্যে দুটো ভাষা মিশতে পারলে একটা শব্দে পারবে না কেন? আমি তো ভাবছিলুম বাংলা, হিন্দি, মালায়লম আর ইংরাজি মিশিয়ে একটা ভাষা বানালে কেমন হয়?

দিদিঃ দুর্দান্ত হয় রে ছাগল। পরের বছর ভাষাদিবসে তোকে সাহিত্যে নোবেল আর ভারতরত্ন মিশিয়ে নোভেলরত্ন দেবে রে পণ্ডিত এজন্য।

হাচিঃ কয়েকটা শব্দের মানে যদিও এখন বুঝতে পারলুম না তবু মনে হচ্ছে কটু কথাই বলছিস। কেন রে? আমরা চারপেয়ে মানুষদের নতুন ভাষা। ভাল হবে না বল?

দিদিঃ আহা শুনে কানে বাতাস লাগল। এঁড়েতক্ক করবিনা হাচি। এসব গাধামি বাদ দাও। এসব হয়না।

হাচিঃ এই তোদের ছিটেল দুপেয়েগুলোর দোষ, জানিস তো। যা আজীবনকাল থেকে চলে আসছে, তাতে একটু কিছু অন্যরকম হলেই পাগলা জগাই এর মতন তেড়ে আসিস। কোথায় সবাই মিলে দেখবি ব্যাপারটা কিরকম দাঁড়াচ্ছে, তা না। পরে খারাপ লাগলে নাহয় ত্যাগ দিবি। এই যেমন আমি, মাংস ছাড়া অন্য কিছু আমাদের শাস্ত্রে খাওয়া মানা। তাবলে কি আমি তোর সাথে গরমকালে তরমুজের টুকরো চুষে দেখিনি? দিব্য খেতে, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা।  যাক গে যাক।  এসব তোরা দুপেয়েরা বুঝবি না। কাজের কথাটা শুধোই। ওই যে কি যেন একটা তক্ক বললি, ওটা কি রে? বলতো আরেকবার।  নোটবইতে টুকে রাখি। নতুন বাংলা শব্দ, এটা জানি না।

দিদিঃ এঁড়ে তক্ক, মানে এঁড়েতর্ক।

হাচিঃ এঁড়ে?  মানে ড এ শূন্য ড়?

দিদিঃ হ্যাঁ।

(চলবে)

Thursday, 8 March 2018

হাচিকোপুরাণ/ পর্ব-১/ মুখবন্ধ


হাচিকো মস্তান ভৌ ভৌ
হাচিকোপুরাণ হইল হাচিকোর বীরগাথা। এই মহাকাব্য শুরু করিবার আগে এই মহাকাব্যের স্থান কাল, পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে কিঞ্চিৎ গৌরচন্দ্রিকা প্রয়োজন। ২০১২ র নভেম্বর হইতে ২০১৫ র অক্টোবর অবধি এক গবেষনা সংস্থাতে থাকাকালীন এই অধমের 'হাচিকো' নাম্নী বীরের সহিত আলাপ এবং পরে কিঞ্চিৎ সখ্যতা করিবার সৌভাগ্য হইয়াছিল। হাচিকো সমস্ত ভয়কে বহু কষ্টেসৃষ্টে দাবাইয়া প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করিত। সমস্ত মহাকাব্যেই যেমন একটি করে নায়ক থাকে তেমনি হাচিকো হইল এই মহাকাব্যের মহানায়ক। হাচিকোসহ বাকি প্রধান কলাকুশলীদিগের পরিচয় নীম্নে প্রদান করা হইল। বাকি অন্যান্য চরিত্রদিগের পরিচয় যথাসময়ে প্রসঙ্গক্রমে যথাবিহিতরূপে উন্মোচিত হইবে।

হাচিকোঃ সারমেয়কুলশিরমনি। পুরো নাম 'হাচিকো মস্তান ভৌ ভৌ'। ডাক নাম হাচি। গ্রীষ্ম-বরষা-সর্বদা একটি কালো কোর্ট পরিধান করে (কালো লোম, ভ্রু এবং চতুরপদে হলদেটে ছোঁয়া)। বাংলা, হিন্দি, মালায়লাম এবং ইংরাজি এই চারটি ভাষায় সুপণ্ডিত।  নিন্দুকে বলে, বলার সময় মুখ দিয়ে 'ভৌ' ই বাহির হয়। কিন্তু নিজের দলীয়মন্ডলীতে কথোপকথন চালাইতে কোন অসুবিধা হয়না। নতুন নতুন বাংলা শব্দ শিখতে উৎসাহী। হাবাকে যমের মত ভয় পায়। যদিও তাহা কদাচ স্বীকার করে না।

হাবাঃ হাচিকোর প্রাক্তন প্রেমিকা। ভীষন রাশভারী, সম্পূর্ণ স্বাধীনচেতা, স্বনির্ভরশীল, ঋষিতুল্য, ধীর স্থির সারমেয়নন্দিনী। হাচিকোর কোনরূপ বাঁদরামি সহ্য করে না। হাচিকোই তাহাকে লইয়া আসিয়াছিল একদা। এক্ষণে দুইজনে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। সাধারণত হাবা খাওয়া দাওয়া বাদে  বাকি সময়টা ধ্যান করিয়াই কাটায়, কিন্তু তার প্রিয়জনের এতটুকু বিপদের আভাষ পাইলেই ঝড়ের মত ঝাঁপাইয়া পড়ে। বিশেষত সেস্থলে হাচিকো উপস্থিত থাকিলে বিনা বাক্যব্যয়ে হাবা তাকে প্রথমেই খানিক পিটুনি দিয়া লয়।

ভাইপোঃ হাবার একমাত্র জীবিত পুত্রসন্তান। পুরো নাম, 'ভাইপো ভাইপো'। কেন তাহার নামে ভাইপো কথাটি দুইবার আসে তাহা সে জানে না। অনেক চেষ্টা করিয়া হাল ছাড়িয়া দিয়াছে। কেবলই তাহার জলতেষ্টা পায়। তাই জল পাইলেই সে আকণ্ঠ জলপান করে। নিজেকে সে ভীষন ছোটো মনে করে। আর কেবলই থাকিয়া থাকিয়া বলে, "আমি ভীষওওওণ ছোটো কুকুর"। এই বলিয়া সে সব কিছু হইতে পার পাইয়া যেতে চেষ্টা করে। সে হাবাকে মা ও হাচিকোকে কাকা সম্বোধন করে। হাচিকোকে একবার 'বাবা' সম্বোধন করে প্রবল মার খাইয়াছিল মায়ের থেকে। তার মা বলিয়াছিল, "ওই অলপ্পেয়েকে খবরদার যদি বাবা ডেকেছিস তো ঠ্যাঙ খোঁড়া করে দেব।" অতঃপর সে 'কাকা'তেই থিতু হইয়াছে।

আহ্লাদীঃ সর্বদা হাস্য ও লাস্যময়ী এক সারমেয়নন্দিনী। প্রেম ও কামকে সে আহার নিদ্রার মতই অপরিহার্য বলে মনে করে। সর্বদা একগাল হাসি এবং একপাল পুরুষ বন্ধু লইয়া গবেষণা সংস্থাটির প্রধান ফটকের ঠিক বাহিরেই অবস্থান করে। ফলত, প্রতি বৎসরান্তেই তার একপাল সন্তান সন্ততি জন্মলাভ করে। তখন সেই সন্তানদিগের মনুষ্য ইচ্ছামতো গতি হওয়া ইস্তক, গবেষণা সংস্থাটির প্রধান ফটকের ভিতরে নিরাপদে সন্তান পালন করে। তৎপরে পুনরায় সে সন্তানবতী হইবার চেষ্টা করে। তার এই চঞ্চলমতিহেতু ঋষিতুল্য হাবা মোটেই তাহাকে পছন্দ করিত না। তদুপরি, ইদানিং আহ্লাদী ভাইপোর প্রতি কিঞ্চিৎ অধিক উৎসাহী হইয়াছে বলিয়া হাবার আরও বিরাগভাজন হইয়াছে।

দাদাঃ হাচিকোর মনুষ্যকুলজাত দ্বিপদী বন্ধু। সম্মানবশত হাচিকো তাকে দাদা বলিয়া ডাকে। গবেষনা সংস্থাটির চৌহদ্দিতে অন্যান্য সারমেয়দের তিরষ্কার করিয়া খেদাইবার জন্য হাচিকো তাহাকে নিযুক্ত করিয়াছে। ইহা ছাড়াও হাচিকোর রাতের খাবার তৈয়ার ও পরিবেশনে তাহার বড় ভূমিকা রহিয়াছে। ছোকরাকে এমনিতে হাচিকো ভালই বাসে, কেবল নরম গরম লেপ কম্বল ও বিছানার উপরে হাচিকোকে বসিতে দেখিলেই সে কেমন যেন খেপিয়া উঠে। হাচিকোকে তখন বিছানা ছাড়িয়া বাধ্যতামূলক গাত্রোত্থান করিতেই হয়। ইহাকে হাচিকো ছোকরার পিত্তের দোষ বলিয়া অনিচ্ছাসত্ত্বেও মানিয়া লইয়াছে। ইহা ব্যতীত, দিদির সাথে খেলার ছলে কামড়া কামড়ি করিতে গেলেও ছোকরার পিত্ত ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী হইতে থাকে। ইহাতে অবশ্য হাচিকোর মানসিক আহ্লাদই জাগিয়া উঠে।

দিদিঃ হাচিকোর মনুষ্যকুলজাত আর এক দ্বিপদী বন্ধু। সম্মানবশত হাচিকো তাকে দিদি বলিয়া ডাকে।  যদিও  পাগল ছিটগ্রস্ত বন্ধুই ভাবে মনে মনে। হাচিকোর বিকেলে কিংবা সন্ধ্যেয় খেলার সময়, অসময়ে ডিমটা, গুলিটা (পেডিগ্রীর বল, হাচিকো গুলিই নামে চেনে এই সুস্বাদু খাদ্যবস্তুটিকে) পেতে এই দুর্মতি বালিকাকেই প্রয়োজন পড়ে। বাকি সময়টা একে সাধারণত একটু দাঁত দেখাইয়া, ঘ্যাঁ ঘোঁ করিয়া দূরে রাখতেই চেষ্টা করে। নতুবা,  যখন তখন "আমার কুচু হাচিকো" বলিয়া বিষম আদরের ঠেলায় হাচিকোর কান, হাত, পা, নাক নাড়াইয়া, চুলকাইয়া তাকে জাপটে চাপিয়া ধরিয়া তাকে নাস্তানাবুদ করিয়া দিবে। এই ছিটেল বন্ধুটির সাথে তার অবশ্য নানা সুখদুঃখ এর গল্প চলে। মাঝে মাঝে দার্শনিক আলোচনাও। তদুপরি, সেই একমাত্র, যে হাচিকোকে বিছানায় উঠিতে দেয়, এবং পছন্দের নরম কম্বলটিতে বসিতে দেয়। অবশ্যই দাদার অজান্তে। এসকল কারণে হাচিকো একে বড়ই ভালবাসে কিন্তু মধ্যে মধ্যে দাঁতও দেখাইয়া লয়।

(চলিবে)