Sunday, 29 November 2015

চা টা খাবো

Google image থেকে 

গদাম কয় গদামি
জানি তোর বদামি।
আমরা দুটি গাধা রে
গান ধরেছি সা ধা রে।
সুরের চোটে ফাটল ছাদ
সেই থেকে সুর রইল বাদ।
সেই থেকে মন বেজায় ব্যোম
হাত পা ছুঁড়ি দমাদ্দম।
হাত পা ছুঁড়ে ভাঙ্গল কাপ
চা টা খাব কোথায় বাপ?
একটা বাটিও নেই বাকি?
ঠিক বলছ? বাপরে সেকি?
এতো দেখি বেজায় রাগ!
আচ্ছা ছাড়ো, যাক গে যাক।
এবার চল চা টা খাবো
কাপটা না হয় আমিই দেব।
সেই ভাল বেশ চলো চলো
মনটা বরং হবে ভালো।

বড় হয়ে ওঠা


অনেকদিন আগে, সম্ভবত জুন মাস নাগাদ যখন দুই এক দিনের জন্য ব্লগে কিছু লেখার চেষ্টা করেছিলাম তখন বলেছিলাম যে, ভাবনার সহজ প্রকাশ খাতায় কলমে তখনই সম্ভব যখন মস্তিস্ক-হৃদয়-আর পারিপার্শ্বিকতা সবাই একসাথে কোরাস গাইতে পারে। কোনভাবেই সেই কোরাস গানটিকে একসুরে বেঁধে উঠতে পারা যাচ্ছিল না এতদিন। ইদানিং পালে খানিক অনুকূল হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। জানিনা এই মনে হওয়াটা কতখানি ঠিক। সবটাই আশা করে থাকা মনের ভ্রম, যা অদূর ভবিষ্যতে আবারও ভুল প্রমানিত হতে চলেছে? নাকি সত্যি সত্যি গা ঝেড়ে উঠে দাঁড়াবার সময় এসেছে? ভবিষ্যত এর ভাবনা তুলে রেখেই বলি, যাই হোক না কেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খানিকটা লেখালেখি করা যেতেই পারে। অন্তত মন তাতে বিশেষ বাগড়া দেবে বলে মনে হয় না। বেশ কিছু ঋণাত্মক তরঙ্গের ধাক্কা খেয়ে বেসামাল হয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পড়তেও সামাল সামাল বলে সামলে নেওয়া গেছে। তাতে হাত পা ছড়ে-কেটে গেছে হয়ত কিন্তু বড়সড় স্থায়ী ক্ষতি আটকানো গেছে। তাতে চির-অস্থির ঢেউ এর ওপর রাগ হয়েছে। এবড়ো-খেবড়ো সাগরতটের ওপর হতাশায় লাথি কষাতে ইচ্ছে হয়েছে। সব ছেড়ে দিয়ে সাগর পাড়ি দেবার ইচ্ছে ত্যাগ করে ডাঙার নিসংশয় জীবন কাটাবার মতন আত্মবিরোধী ইচ্ছে পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু সত্যিটা এই যে শেষ পর্যন্ত টিকে গেছি। 

চেষ্টা করলে হয়ত প্রতিটি মানুষের সমস্ত জীবনকালটিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগে ভাগ করা যায়। সে তিনি যতই বিখ্যাত বা অখ্যাত ব্যক্তি হন না কেন। বিখ্যাতদের জীবনের সেইসব অখ্যাত অধ্যায় থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াবার প্রেরণা পাই। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাহস পাই। সেই সব ধাক্কা খাওয়া অধ্যায় থেকে আমরা আমাদের ওপর এসে পড়া ঢেউ এর ধাক্কা সামলে বড় হয়ে উঠি। প্রতিটি মানুষের জীবনেই বড় হয়ে ওঠার এরকম অধ্যায়গুলি আসে আর তার ধাক্কা সামলাতে সামলাতে একটা লাভ হয় যে মানুষটি সত্যিকারের প্রফেশনাল-প্রাকটিক্যাল-আর বাইরের পৃথিবীর জন্য সে সন্দেহশীল হয়ে ওঠে। 

এই লেখাটি হয়ত কিছুটা স্বগতোক্তি। হয়ত কিছুটা ব্যক্তিগত, এখানে লেখার বিষয় নয়। তাও লিখছি। আমি দেখেছি আমার কখনো খুব খারাপ কিছু হয় না। খুব টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে হয়ত যেতে হয়েছে। অকারণে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি কিছু হয়নি। হয়ত আমি বিশ্বাস করি যে আমার কোনো বড় ক্ষতি হতে পারে না, বা যেকোনো খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার প্রানপণ একটা চেষ্টা থাকে বলেই হয়ত বাইরে থেকে বড়সড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। যাই হোক না কেন, এরকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়না বা হয়নি এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। স্বেচ্ছায় সমতল ছেড়ে যাঁরা হিমালয় এর শোভা দেখার মনস্থির করেছেন তাঁদের জন্য যে কম বেশি প্রতিকূলতা অপেক্ষা করেই সেতো বলাই বাহুল্য। আর এইসবের ভালো দিকটি এই যে, মানুষ চিনতে পারা-দেহ মনের শান্তি বিঘ্নিতকারী মানুষদের থেকে সযত্নে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া-মেরুদন্ডহীন স্বার্থসর্বস্ব মানুষদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের অন্যায় কৃতকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস অর্জন করা-নিজের সামান্য লাভের আশায় এদের অন্যায়কে সহ্য না করার সহজ শক্তি যে নিজের মধ্যে আছে তাকে চিনতে পারা- আর তার ফলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। আর সবচেয়ে বড় কথা, মেরুদন্ড সোজা রেখে, মিথ্যাবাদীর চোখে চোখ রেখে সত্যিকথা বলার সাহস থাকার অপরাধে আশেপাশের সমাজে যে অপবাদ ছড়াবার কথা সেই কথা আর সমস্ত বিপ্রতীপ মানুষজন কে অনায়াসে পাত্তা না দিয়ে পাখির চোখের মত নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার মতন বুকের পাটা তৈরী হয়ে যাওয়া। 

সুতরাং, প্রতিকূলতা কারো জীবনেই কখনোই হয়ত কাম্য নয়। কিন্তু যদি তা এসেই যায়, তাকে বুক দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে গিয়ে প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে বুক চিতিয়ে সামনে দাঁড়াবার মতন একটা পাথুরে বুক যে তৈরী হয়ে যেতে পারে সেটিও কম লাভ নয়। সেটাই হয়ত সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করার জন্য সদ্যবিলীয়মান কিছু পরিস্থিতির প্রয়োজন ছিল আমার 'বড় হয়ে ওঠার জন্য।'

Friday, 10 July 2015

মেঘলা দিনে




মেঘলা দিনে নরম হয়ে আসে মেঘলা মন
কেমন নরম জানো?
দুহাতের পাতায়
একমাস বয়সের কাঠবেড়ালীর ছানাকে
ধরে দেখেছ কোনোদিন?
ঠিক সেরকম।

হাতের মধ্যে থরথর করে কাঁপতে থাকে সে,
পালকের মত তিরতিরে লেজটা সিঁটিয়ে যায়
ভয়ে-অনিশ্চয়তায়।

তারপর ধীরে ধীরে
হাতের ওম পেয়ে
কখন যেন নির্ভর করতে শুরু করে হাত দুটিকে।
শিথিল হয়ে আসে তার ভয়াতুর তিরতিরে লেজ।
পাতলা আঙ্গুল দিয়ে জড়িয়ে নেয় আঙ্গুল।
মুখ নামিয়ে দেয় হাতের উপর
পিঠের তিনটে রেখায় আঙ্গুল বোলালে
পরম নিশ্চিন্ততায় চোখ বোজে,
আবেশে।

মেঘলা দিনে যেরকম শিরশিরে ভেজা হাওয়ায়
স্তব্ধ হয় ভাবনা।
আর তারপর
অঝোর ঝরা বৃষ্টিতে আধভেজা হতে হতে
পরম নিশ্চিন্তে মাথা রাখা যায় জানলায়
আর সমস্তকিছুকে সরিয়ে রেখে।     


আজ বৃষ্টি হয়েছে। অঝোরে। সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সে। অনেকদিনপর। অনেক সময় নিয়ে।      

Wednesday, 24 June 2015

Multitasking

Multitasking ব্যাপারটা শুনতে যতটা কঠিন লাগে ব্যাপারটা আদতে তার চেয়ে শতগুণ বেশি কঠিন। এই আপ্তবাক্যটি আমি সম্প্রতি আবিষ্কার করেছি। বলা ভাল নিজের দৈনন্দিন জীবন দিয়ে বুঝতে শিখেছি বা শিখছি। এতদিন Multitasking বলতে বুঝতাম ল্যাবে তিনটে এক্সপেরিমেন্ট একসাথে করে ফেলার চেষ্টা করা বা বাড়িতে মাছ ভাজা করতে করতে গত দশদিনের ঝাঁট না পড়া ঘরের মেঝেতে ঝাঁটা বুলিয়ে ফেলা বা প্রেসার কুকারে খিচুড়ি চাপিয়ে সেই খিচুড়ি না পুড়িয়ে ফেলে আস্ত একটা সিনেমা দেখে ফেলার মতন কাজ বুঝি। ফলে এযাবৎকাল এই জাতীয় মহান কাজকর্ম একসাথে করে ফেলতে পেরে “ওরে এ তো দারুণ multitasking”- বলে গলা ফুলো পায়রা হয়ে ঘুরে বেড়াতাম। এখন বুঝছি ব্যাপারটা এতটাও বোধহয় ইয়ে নয়। যখন ল্যাবের তিনটে এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটা হল “চন্দ্রবিন্দুর চ, বেড়ালের তালব্য শ আর রুমালের মা” তখন তার থেকে ‘চশমা’ বানানোটা যে কি বিপুল ঝকমারির কম্ম তা যেকোনো রিসার্চ ল্যাবে বছর তিনেক কাটানো যেকোনো হতভাগ্যই জানেন। আর তার সাথে যদি থাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার রক্তচক্ষু তবে তো ব্যাপারটা আর বেশ রসস্থ হয়ে ওঠে। আর তার সাথে যদি যোগ হয় নিজের ভবিষ্যত দর্শনের বৃথা চেষ্টা তাহলে তো সোনায় সোহাগা, দিগ্বিদিকে অন্ধকার। এবং এখানেও শেষ না হয়ে বেয়াড়া মাথা যদি বলে আমার বিনোদনের খোরাকটি গেল কই? ফলে আরও একশো রকম বিষয়ে পড়াশুনা-আলোচনা, আলুভাজা খেতে খেতে একশো রকম ভাবে ব্রেনস্টর্মিং ইত্যাদি। সাথে আবার মনের বায়নায় তার বিনোদনের ব্যবস্থার কথাটিও ভুললে চলে না। নইলে আবার মন আর মাথার ঝগড়ায় মন বা মাথা সমস্ত কাজই ভুন্ডুল হতে বসে। এত কিছুর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সমস্ত কিছু থেকে সঠিক সময় মন সরিয়ে এনে সেই মুহূর্তের বর্তমান বিষয়টিতে মনোনিবেশ করা। কিন্তু বাকি বিষয়গুলিকেও ভুলে গেলে চলে না। সঠিক সময়ে সমস্ত মন মাথা নিয়ে সেখানে ফিরে আসার কথাটিকে মস্তিস্কের কোন একটি কুঠুরিতে সযত্নে লালন করা চাই। অর্থাৎ ঘরের মেঝেতে ঝাঁটা বোলাতে বোলাতে মাছভাজার কথা ভুলে গেলে সেদিন আর ভাতের সাথে মাছটি জুটলো না। আবার সম্পূর্ণ মাথাটি মাছের দিকে থাকলে ঘরের এদিক ওদিক রয়ে যায় ধুলোর পরত। আমার যেমন মাছ ভাজতে গেলে মনে পড়ে ঘরটা না পরিস্কার করলেই নয়। উশখুশ করতে করতে যেই না ঝাঁটা হাতে নিলাম, অমনি সাঁ করে মন হতভাগা ঝাঁপ মারলো মাছের কড়াইতে। ফলে যা হয়- না হল ঠিক করে মাছ ভাজা, না হল ঠিক করে ঘর পরিস্কার করা। দুপুরে আধপোড়া বা আধকাঁচা মাছ দিয়ে ধুলো কিচকিচ ঘরের মেঝেতে বসে ভাত খেতে হল। উপরি পাওনা ঠিক সময়ে ঠিক কাজ না করায় মন খুঁতখুঁত- বুক দুড়দুড়- জীবনটাকে একবাটি ভর্তি কালমেঘ পাতার রস ছাড়া আর কিছু মনে না হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। দুইয়ের মাঝে সঠিক ব্যালান্সই যে হল আসল multitasking সেটি এই বুড়ো হয়ে তবে একটু একটু বুঝতে পারছি। আগে তো পুরোটা হৃদয়ঙ্গম করে উঠি তবে তো চেষ্টা করে করে একটু একটু multitasking করার কথা ভাবা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্ণ মনোনিবেশ আর নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট বিষয় থেকে সাময়িক ভাবে মন তুলে নিয়ে পরবর্তী নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে আমার তো অন্তত এখনও ল্যাজেগোবরে অবস্থা। দেখা যাক। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এই চেষ্টাটা অন্তত শুরু করে উঠতে পেরেছি বলে অন্তত নিজের চোখের দিকে আয়নায় তাকাতে পারা যাচ্ছে। অপরাধবোধ খানিক কম কম বলেই মনে হচ্ছে, তাই হয়ত প্রাণে খানিক হাওয়া লেগেছে। অবশ্য প্রাণে বাতাস লাগার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ঘটেছে। এক, মৌসুমি বাতাসের অক্ষরেখা উত্তরপ্রদেশের মাঠঘাট ছাপিয়ে হরিয়ানা ছুঁই ছুঁই হয়ে এসেছে। তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর খটখটে হরিয়ানায় বসে থাকা বর্ষা ভেজা সবুজ জল ছপছপ বঙ্গে বড় হওয়া মানুষের কাছে এর চেয়ে ভাল খবর আর কি হতে পারে? আর দুই নম্বর কারণটা হল এই যে, আমরা কাল আবার দুজনে লোটা কম্বল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছি তিন-চার দিনের জন্য। এবারের গন্তব্য কুমায়ুন পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা-মুক্তেশ্বর। আমাদের বেড়ানোর রুটিন মেনে কালকে যথারীতি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস ঘোষিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে।


এর পরেও প্রাণে বাতাস না লেগে পারে?       

     

Wednesday, 6 May 2015

চেনা-অচেনা গাড়ওয়াল-১

মনের কথা সাদা পাতায় নামিয়ে আনার জন্য মনের সহায়তাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরী। চার লাইন লিখতে গেলেও যে শান্ত মস্তিস্কের প্রয়োজন পড়ে সে কথা অনস্বীকার্য। সেই মনটাকেই বাবা-বাছা করে, ধরে বেঁধে কোনো ভাবেই সঠিক সুরে বাঁধা যাচ্ছে না কিছুতেই নানা কারণে। তাও খানিক জোর করেই সাম্প্রতিক দু চারটে ঘটনার কথা বলবার চেষ্টা করছি।   

*********************************************************************************


এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আমরা দুইজন দুই মাকে বগলদাবা করে বেরিয়ে পড়েছিলাম গাড়ওয়াল হিমালয়ের চেনা পথে। গন্তব্য দেরাদুন হয়ে মুসৌরী, সেখান থেকে ধনৌলটি হয়ে ঋষিকেশ-হরিদ্বার। একযাত্রায় পাহাড়ভ্রমণ আর তীর্থদর্শন। এবার মায়েরা সঙ্গী বলে আর কোনো অনিশ্চয়তা নয়। ট্রেন, হোটেল সবকিছু দুমাস আগে থেকে ঠিকঠাক করে রাখা।নির্দিষ্ট দিনে শুধু 'জয়্মা' বলে চারজনে বেরিয়ে পড়া গেল। যাবার পথে বিশেষ কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু একটি ঘটনা না বলে থাকতে পারছি না সেটা ঘটলো মেট্রো স্টেশনে।

কয়েক মাস আগে দিল্লীর একটি বিয়েবাড়ি সেরে ফেরার সময় আমাদেরই এক সহকর্মী একটি খুব সুন্দর কথা বলেছিল। এই সুযোগে কথাটিকে এখানে উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না। সন্ধ্যের মেট্রো স্টেশন। ভিড়ে ভিড়াক্কার। সকলেই চাইছে সকলের আগে বেরিয়ে যেতে। মনে হচ্ছে এটাই দিনের শেষ মেট্রো। এর পর আর কেউ বাড়ি পৌঁছতে পারবে না সেদিনের মত। এই ছুটন্ত জনস্রোতের মাঝে ধীরে সুস্থে মেট্রো স্টেশনে নেমে ছেলেটি বলল, "ইয়াহি এক চিজ হ্যায় জিন্দেগিমে জিসকে পিছে ভাগনা নেহি পড়তা। এক চলে যায় তো যানে দো, নেক্সট তো আ হি যায়েগা।" -কি দার্শনিক কথা! দিল্লি মেট্রোর বিজ্ঞাপন হিসেবেও দারুন ভাবে চালিয়ে দেওয়া যায় কথাটিকে। যাই হোক সেদিনও সন্ধ্যের সেই মেট্রো স্টেশনটিকে দেখে এই দার্শনিক কথাটিই ভাবতে ভাবতে এগোচ্ছি। এমন সময় দেখি স্টেশনে ঢোকার মুখে বেশ কিছু চেনা মুখের মানুষ বসে থাকেন, স্টেশনই যাঁদের ঘরবাড়ি, এরকম প্রত্যেকটি মানুষের হাতেই কয়েকটা করে মোটা মোটা রুটি আর তার ওপরে খানিকটা করে আলুর তরকারী। একটু অবাক হলাম। সকলের হাতেই একই খাবার, একই রকম ভাবে নেওয়া, একই পরিমাণে? কি ব্যাপার? প্রশ্নের উত্তর পেলাম একটু বাদেই। ভিড় ঠেলে স্টেশনের দিকে একটু এগোতেই চোখে পড়ল আমাদেরই বয়সী বা হয়ত বয়সে আমাদের থেকে খানিক ছোটই হবে দুটি ছেলে মেয়ে, চোখে মুখে উত্তর-পূর্বের ছাপ স্পষ্ট। হয়ত কাছাকাছি কোথাও পড়াশুনা বা জীবিকার প্রয়োজনে থাকে। মেয়েটির হাতে প্লাস্টিকের প্যাকেটে একগোছা রুটি। আর ছেলেটির হাতে প্লাস্টিকের প্যাকেটে বেশ খানিকটা তরকারী। অন্য হাতে একটি বড় চামচ। সিঁড়ির সামনে বসা বাকি চার-পাঁচ জনকে রুটি-তরকারী দিচ্ছে। এবং এই দেওয়া যে কোনো একদিনের হঠাৎ দেওয়া ঘটনা নয়, প্রাত্যহিক বা অন্ততপক্ষে অত্যন্ত প্রত্যাশিত একটি ব্যাপার সেটি দাতা এবং গ্রহীতাদের পারস্পরিক দৃষ্টি আর হাসি বিনিময় এবং দুপক্ষেরই শরীরী ভাষায় স্পষ্ট। আমরা পৌঁছাতে পৌঁছাতে এই চারপাঁচ জনকে খাবার দেওয়া শেষ করে ছেলে মেয়ে দুটি চলল স্টেশনের উল্টোদিকে বসা বাকিদের খাবার দিতে।

স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে কোনো দোকানের সাথে ব্যবস্থা করা আছে এই ছেলে মেয়ে দুটির। সেখান থেকে বানানো রুটি তরকারী নিয়ে (কোনো মতেই এগুলি বাসি বা ফেলে দেওয়া খাবার বলে মনে হয়নি আমার) এরা মাঝে মাঝেই হয়তবা প্রতিদিনই অন্তত দশ বারো জন লোকের রাতের খাবারের বন্দোবস্ত করেছে। কিছুক্ষণ ধরে ব্যাপারটি ভাবার পরে মনে হলো আমি তো পারিনি কোনো একজনের দিনের একবেলা খাবারের দায়িত্ব নিতে। হঠাৎই কিরকম লজ্জা করতে লাগলো আমার। উত্তর-পূর্বের মানুষদের সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্মক কত মন্তব্য শুনেছি কলকাতায় থাকাকালীন। সেই অঞ্চলেরই দুজন মানুষ আজ চোখের সামনে হু হু করে কত উঁচুতে উঠে গেল দেখে মন ভরে গেল। মুগ্ধ চোখে দেখতে থাকলাম গোলাপী জামা পরা মেয়েলি একটি হাতে রুটির গোছা আর অন্য হাত ধরা পুরুষালি একটি হাতে, যে পুরুষের অন্য হাতে ধরা এক প্যাকেট ভর্তি তরকারী। আস্তে আস্তে মিশে যাচ্ছে সন্ধ্যের মেট্রো স্টেশনের ভিড়ে। এগিয়ে যাচ্ছে উল্টোদিকের সিঁড়িতে বসে থাকা আরো কতগুলি প্রত্যাশী মুখের দিকে। ছোটো হতে থাকা নিজেকে লজ্জায় কুঁকড়ে নিয়ে ভিড়ে লুকিয়ে ফেলা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না আমার।

আমাদের চার দিনের গাড়ওয়াল হিমালয় ভ্রমণ শুরু হল এরকম করে।     

Monday, 20 April 2015

সকাল

মিটমিটে হলুদ রং হয় বুঝি বিষণ্নতার
তখন হাওয়াতেও বুঝি স্তব্ধতার গতি
জঙ্গুলে ঘন অন্ধকারে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
বেতাল মন কেবলি সমন্বয়ে আসার চেষ্টা করে চলে
নিরন্তর।

মধ্যরাতে নিরর্থক ক্লান্ত চোখে নেমে আসে
ঘুমের অনিবার্যতা
পরদিন আবার সকাল।
তারপরদিন আবারও
ভোরের পর ভোর আলো ছড়িয়ে যায়
নিজের নিয়মেই।

শুধু আমারই আজও কি করে যেন
রাত কাটিয়ে সকাল হয়ে ওঠা আর হয়ে ওঠে না।    

Thursday, 16 April 2015

নববর্ষ

আপাতত এই বছরের নববর্ষটা বিশেষ শুভ বলতে পারছিনা। কারণ আবার আমাদের অন্ধকার বন্ধ বাড়িতে চাবি খুলে ঢুকতে হচ্ছে আবার আমাদের খিদে বোধ ফিরে এসেছে (এর আগের দুই সপ্তাহ খিদে পাবার আগে হাঁ করলেই মুখে টপাটপ সুখাদ্যের বর্ষণ হচ্ছিল)আবার আমাদের সকালে উঠে একা একা ফাঁকা ঘরে ঘুরঘুর করতে হচ্ছে আবার আমাদের সন্ধ্যেবেলায় ইন্টারনেট মুখে করে সময় কাটাতে হচ্ছে........ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যাপারটা আর কিছুই নয় দিন কুড়ি আমাদের মতন দুই অপগন্ডকে নাইয়ে-ধুইয়ে-গান্ডেপিন্ডে খাইয়ে-পরিস্কার জামাকাপড় পরিয়ে আরো একশরকম বায়নাক্কা সামলে খাটতে খাটতে পনেরো দিনে সাড়ে পনেরো শতাংশ রোগা হয়ে গিয়ে অবশেষে এই নববর্ষের ঠিক আগের দিনেই দুইজনের দুই মা বাড়ির দিকে ইঞ্জিনের মুখ করে রাখা রাজধানীর সিটে গিয়ে বসে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে। আর আমরা তাদের সিটে বসিয়ে দিয়ে এসে সামনের দশদিনের জন্য তাদেরই তৈরী ফ্রিজ বোঝাই করে রেখে যাওয়া খাবার দাবার বের করে খাচ্ছি আর ফোঁসফাঁস দীর্ঘশ্বাস ফেলছি আর ভাবছি ঘরদোর জামাকাপড় বেশ পরিস্কার-পরিষ্কার লাগছে। কিছুদিন চলে যাবে হাত-পা না নাড়িয়েই। তারপর যাক গে বসে বসে আঙ্গুল চোষা ছাড়া গতি নেই। আসলে ঘোড়া যখন থাকেনা থাকেনা হেঁটেই দিন চলে যায়। কিন্তু একবার ঘোড়ায় চড়া অভ্যেস হয়ে গেলে পর আর দুই পা হাঁটতে গেলেই ঘোড়ার অভাব বোধ হয়। তাই এই নববর্ষটা ব্যাজার মুখে শুরু হয়েছে। আর তাই হয়ত আগের সব নববর্ষগুলো বেশি বেশি করে মনে পড়ছে। 

কুঁচো বয়সে যখন মায়ের বাধ্য ভদ্র বাচ্চা ছিলাম তখন নববর্ষের বেশ একটা উত্সব উৎসব ব্যাপার অনুভব করতে পারতাম। সেটা সাদা মনের অমলিন উৎসবের প্রভাবেই হোক বা অন্য কোন কারণে। একটা কারণ অবশ্যই ছিল এই যে, নববর্ষের ঠিক আগেই শেষ হয়ে যেত বার্ষিক পরীক্ষা। পরীক্ষার খাতায় কতটা হাবিজাবি আর কতটা ঠিকঠাক লিখে এসেছি সেটা বাড়িতে প্রকাশ পাবার এবং জীবনে ভয়ানক দুর্যোগ নেমে আসার জন্য আরো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি থাকতো। সুতরাং 'সখের প্রাণ গড়ের মাঠ'। তার ওপরে আবার বাংলা নববর্ষে নতুন জামা। সে জামা বুকে কমলা সুতোর দিয়ে হাঁস আঁকা সাদা সুতির টেপফ্রক থেকে শুরু হয়ে আমার বয়সের বয়সের সাথে সাথে বিবর্তিত হতে হতে দুই কাঁধে ফিতে বাঁধা সুতির ফ্রক, তারপর সুতির স্কার্ট-ব্লাউজ হয়ে বর্তমানে শালওয়ার-কামিজে এসে ঠেকেছে। সে জামা যেমনই হোক সেটি কেনার সময় দুটি অবশ্য মান্য বিষয় হলো-জামাটিকে অতি অবশ্যই সুতির কাপড়ের তৈরী হতে হবে এবং রংটি গরমে পরার উপযুক্ত, চোখের পক্ষে আরামদায়ক হতে হবে। মানে এযাবৎকালে তাই হয়ে এসেছে আমার ক্ষেত্রে। সুতরাং বার্ষিক পরীক্ষার জুজুকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কাটিয়ে আসার পরে উপরি হিসেবে নতুন একখানা জামা পেয়েও যদি পয়লা বৈশাখে উত্সব না হয় তবেই বরং আশ্চর্যের বিষয় হত। হাঁস আঁকা টেপজামা বা দুই কাঁধে ফিতে বাঁধা ফ্রক পরার আমলে অবশ্য পয়লা বৈশাখে জামাটা আমার একার জন্যেই আসছে, নাকি মা বাবারও নিদেন পক্ষে একটা ব্লাউজ বা লুঙ্গি গোছের কিছুও দোকান থেকে এসে পৌঁছোচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজর পড়তনা আমার। পরে ঘটি হাতা ফ্রক বা স্কার্টব্লাউজ পরার সময় থেকে এবিষয়ে নজর পড়তে শুরু করলো। আর কোনো বছরে আর্থিক কারণে আমার একার জন্য দোকান থেকে জামা এলে "আমার একার কেন নিয়ে এলে? আমার অনেক জামা আছে, আর চাইনা"-ইত্যাদি বৃথা চেঁচামেচি করা ছাড়া আর আমার কিছু করার না থাকায় ব্যাজার মুখে বিকেল বেলা নতুন জামা পরে খেলতে যেতাম। এবং নতুন জামার কল্যানে সেদিন খেলায় আছাড় খাওয়া বা কাটাছেঁড়ার পরিমাণটা খানিক কম হত। মাঝে মধ্যে অবশ্য না পরে রেখে দেওয়া আগের বছর পুজোয় পাওয়া কোনো সুতির ছাপাশাড়ি ম্যাজিকের মতন বের করে মা বলত এই দেখ আমার নতুন শাড়ি। আর বাবা "আমি এই ঘামে গরমে সাইকেলে করে বাজার দোকান যাই টাই, আমার আর নতুন জামা কি হবে? অনেক জামা আছে, রোদে ঘামে নষ্ট হয়ে যাবে"- এইসব ভুজুং দিয়ে আমায় ঘুরিয়ে দিত। অনেক পরে অবশ্য তিন জনেরই কিছু না কিছু আসতো পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে। 

আর একটি জিনিস সে বয়সে কি করে যেন মাথায় ঢুকে গেছিল, মা-ই ঢুকিয়েছিল নির্ঘাত, সেটা এই যে, বর্ষশুরুর দিনে সক্কাল সক্কাল উঠে ভালো মেয়ের মতন পড়াশুনা করতে হয় তাহলে সারাবছর ভালো পড়াশুনা হয় (তখন থেকেই লেট রাইজার মেয়েটাকে একদিন অন্তত ভোর ভোর ঘুম থেকে তোলার চেষ্টা আর কি)। আর দূরদর্শনের সে জমানায় একটি উত্সাহ বড়দের মধ্যে ছিল সেটি হলো নববর্ষের বৈঠক। সেটি এবছর কোথায় হচ্ছে মেট্রো রেল এ, নাকি গঙ্গাবক্ষে বজরায়, নাকি অভিনব অন্য কোনোখানে এবং কোন কোন বিদগ্ধজন এ বছর সেই বৈঠকে আছেন সেটি নিয়ে বিশেষ গবেষণা হতে দেখতাম। আমাদের বাড়িতে সকালে টিভি খোলা হত বছরে মাত্র দুটি দিন। মহালয়ার দিন আর নববর্ষের দিন। নববর্ষের সকালে উঠে টিভিতে সকলে নববর্ষের বৈঠকে গান-কবিতা-আলোচনা শুনত। আর আমাকেও সেখানে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করা হত। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার একটুও বসে থাকতে ইচ্ছে করত না। খুব খারাপ লাগত অনুষ্ঠানটা। কারণ যে সময়ের কথা বলছি সে সময় অনুষ্ঠানে একটা নাচ অন্তত না থাকলে সে অনুষ্ঠান আমার কাছে নিতান্তই অর্থহীন লাগত। মনের ভাবটা এরকম থাকত যে-অন্য দিন টিভির কাছে বসার অনুমতি বিশেষ পাওয়া যায়না। সেই অনুমতি যখন পাওয়া গেছে (উপরন্তু ডেকে ডেকে টিভি দেখতে বলছে! এ তো অবিশ্বাস্য ব্যাপার!) তাও আবার সকাল বেলা যখন নাকি ঘুম কাটতে না কাটতেই পড়তে বসাটাই ভালো বাচ্চার লক্ষণ তখন এইসব বকবকানি শুনতে হবে বসে বসে কি যে সময়ের অপব্যবহার! আমি বসে বসে দুধ আর মারি বিস্কুট খেতাম আর অপেক্ষা করতাম যদি ভুল করেও একটা নাচের অনুষ্ঠান থেকে থাকে এই বৈঠকে সেই আশায়। এরপর খানিক বাদে মা বাবা যে যার কাজে উঠে পড়লে আমার ও সে আশায় জল পড়ে যেত। আমাকেও দুধের গ্লাস নামিয়ে রেখে বই-এর ব্যাগ খুলে বসতে হত। আসলে বেশ খানিকটা সাজুগুজু করে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে লীলায়িত ভঙ্গিতে নাচ ব্যাপারটা আমার বড়ই লোভের জিনিস ছিল। তার একটা কারণ এখন আমার মনে হয় এই যে, আমি কোনো দিন নাচ শিখিনি। কিন্তু অনেক ছোট থেকে গান টান গাওয়ানোর একটা চেষ্টা করা হয়েছিল আমার ওপর। যার ফলে এদিক ওদিকের অনুষ্ঠান নাচ-গানের যৌথ স্কুল ইত্যাদির কল্যানে বন্ধুবান্ধবদের ছোটো থেকে নাচতে দেখেছি। আর বর্ষবরণ বা পঁচিশে বৈশাখ জাতীয় পাড়ার অনুষ্ঠানে আমি যখন সাদা ফ্রক পরে দুপাশে ঝুঁটি বেঁধে সাত সন্ধ্যেবেলা ফাঁকা আসরে খানিক প্যাঁ প্যাঁ করে গলাবাজি করে নেমে আসতাম তখন বন্ধুরা কেমন ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে শাড়ি টাড়ি পরে, মাথায় ফুল, কাজল, লিপস্টিক, টিপ, চুড়ি ইত্যাদি প্রভৃতিতে ঝলমলিয়ে মঞ্চ দাপিয়ে নাচতো। আর আমি জুলজুল চোখে নিচ থেকে দেখতাম। সেই থেকেই বোধহয় আমার নৃত্যপ্রীতির সূচনা। 

তার কিছুবছর পরে শুরু হলো বৈশাখের অবশ্য পালনীয় আর একটি অনুষ্ঠানের জন্য মহড়া। পঁচিশে বৈশাখ। পয়লা বৈশাখ থেকেই পাড়ার বড় দাদা দিদিরা আমাদের চুনোপুঁটির দলকে নিয়ে তালিম দেওয়া শুরু করত। পয়লা বৈশাখ থেকেই কেন শুরু করত কে জানে? বছরের শুরুতে বাচ্চারা ভালো শিখতে পারে নাকি টিচারদের ঐদিন মাথা ঠান্ডা থাকে? তারা না পারলে বকুনির বহরটা খানিক কম থাকে? তারপর যত বছর পুরনো হতে থাকে ততই টিচারদের মাথার তাপমাত্রা বাড়তে থাকে? কেজানে? মোটকথা পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে যেত পঁচিশে বৈশাখের মহড়া। কখনো কখনোবা একাধিক অনুষ্ঠানের মহড়া। পঁচিশে বৈশাখের এক দুই দিন এদিকে ওদিকে করে আশেপাশের পাড়ায় হত অনুষ্ঠান। কুশীলবরা সব মোটামুটি একই মুখ। সুতরাং অনুষ্ঠানের কিঞ্চিত বৈচিত্র থাকতে হবে বৈকি। সেসব অনুষ্ঠানে যে আমরা কিরকম কুশলতার পরিচয় রাখতাম সেসব বলতে গেলে একটা আলাদা ব্লগপোস্ট লিখতে হয়। মোটকথা বাংলা বছর শুরু হলেই বঙ্গদেশের বাকি সমস্ত অংশের মতই আমাদের পাড়াতেও সংস্কৃতিপ্রেম উদ্বেলিত হয়ে উঠতো। আমরা ট্যাঁপাটেঁপির দল ছিলাম সে সংস্কৃতি রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। একে পরীক্ষা শেষ বলে নিয়ম করে পড়তে বসার বালাই নেই তার ওপরে নতুন জামা। এর পরেও বলতে হবে কেন পয়লা বৈশাখ উত্সব ছিল? ছিল বলছি কারণ এখন এই পয়লা এবং দোসরা বৈশাখ আমি উপরোক্ত ভালো ভালো কাজ করার জায়গায় ল্যাবে বসে গবেষণা গবেষণা খেলছি আর ব্লগ লিখছি। কি আর করব-যখন যেমন তখন তেমন।



শুভ নববর্ষ। নতুন বছর সবার খুব ভালো কাটুক। সক্কলে খুব ভালো থাকবেন।