Sunday, 29 May 2016

বৃষ্টিকথা





কোনো ভরা শ্রাবণের মধ্য দুপুরে
যখন আকাশ অন্ধকার করে মেঘেরা থম মেরে বসে থাকে
যেন আর কোথাও যাবার নেই ওদের,
কোনো তাড়া নেই, কোনো কাজ বাকি নেই-
যেন কিসের অপেক্ষায় নিচের দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকে ঠায়। 

সেসময় মনে কর-
তোমার ডাঁয়ে পাহাড়,
বাঁয়ে পাহাড়-
সামনে দৃষ্টিসীমা অবধি ছোটো-বড়-সবুজ টিলা আর টিলা
ছোটো হতে হতে
ছোটো হতে হতে
ক্রমশ দিগন্তে গিয়ে দম নিয়েছে।

পাথরের চাতালে শুয়ে আছো তুমি
ওই ধোঁয়া রঙের থম মেরে রওয়া মেঘেদের দিকে চোখ মেলে।
শ্রাবণের জলে-হাওয়ায় তরতরিয়ে বেড়ে উঠেছে সবুজেরা।
বাড়তে বাড়তে সে সবুজ কখন যে
তোমার পুরো তুমিটাকেই সবুজে সবুজ করে ফেলেছে
তার ঠিকানা নেই তোমার কাছেও।
    
ঠিক সে সময় বাতাসও যখন
দস্যি ছেলের দলের মত
এক্পুকুর বৃষ্টিতে নেয়ে উঠে
হল্লা শুরু করে
মুখের ওপর
বুকের ওপর।

সমস্ত দৈন্যতা এলোমেলো করে
বৃষ্টি নামে তখন
তোমার মুখের ওপর
বুকের ওপর
বুকের ভেতর
সারা আকাশ জুড়ে।




...........এখানে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হয়নি ...... হয়না কতদিন........সমস্ত কিছুতে ধুলোর প্রলেপ........কত পরত তা কে জানে।



Thursday, 31 December 2015

ধোঁয়ার গন্ধ

বাড়িতে একটা ঘর আছে, সেখানে দুটো মাটির উনুন আছে। যদিও চলতি কথায় তাদের কাঠের উনুন বলে ডাকা হয়। কারণ কাঠ কুটো জ্বাল দিয়ে সেখানে রান্নার ব্যবস্থা। অনেক আগে এগুলিই ছিল আমাদের বাড়ির একমাত্র রান্নাবান্নার ব্যবস্থা। সময়ের সাথে সাথে কাঠের উনুন থেকে গুল-কয়লার আঁচের উনুন, পাম্প দেওয়া স্টোভ-পাম্প না দেওয়া স্টোভ-গ্যাস-ইনডাকশন ওভেন পর্যন্ত বিবর্তিত হয়েছে আমার মায়ের হেঁসেল। কিন্তু সে ঘর- সে উনুন এখনো আছে তার অটুট স্বাস্থ্য নিয়ে। সে উনুন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগাড়ও আছে। প্রতিদিনের অল্প ব্যবহারের সাথে সাথে এখনো বছরের দুটো দিন তারা মহানায়ক এর ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যে কথাটা বলতে ইচ্ছে করছে সেটা এই উনুন নিয়ে নয়, উনুন এর ধোঁয়া নিয়ে।      

অনেক ছোট্টবেলার কথা মনে পড়ে। বিনা কারণে হাঙ্গরের মত হাঁ করে কান্নাকাটি আর আদরে-আহ্লাদীপনার বিলাসিতার পর্ব পার করে এসে তখন সদ্য স্লেট-পেন্সিলে পড়েছি। সকাল-বিকেল পড়তে বসা রান্নাঘরে। কারণ মায়ের তাতেই সুবিধা। একখানা আসন ছিলো, মায়েরই হাতে বোনা। সবুজ রঙের উল দিয়ে চৌখুপি-মধ্যে আট পাপড়িওয়ালা লাল উলের ফুল। ধারগুলো মায়ের শাড়ির পাড় কেটে বাঁধানো। আমার পড়তে বসার আসন। আর বইখাতা বলতে, একখানা নামতার বই, বর্ণপরিচয়, হাসিখুশি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবই, সঙ্গে আমার অধিকারে থাকা কথামালা, ঈশপ-এর গল্পের একরঙ্গা ছবির বই -ইত্যাদি সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে হাজির হতাম সকাল বিকেল। তারপর ঘন্টা দুই তিন রাম-রাবণের যুদ্ধ সেরে যখন আবার পাততাড়ি গুটিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসতাম ততক্ষণে ফ্রকের ঝুল দিয়ে ভিজে চোখ মুছতে গিয়ে কেমন একটা গন্ধ পেতাম।  ধোঁয়ার গন্ধ। সেই একই গন্ধ পেতাম মায়ের শাড়িতে রাতের বেলা মাকে আস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে শোবার সময়। 

শীতের দুপুরে বেলাশেষের আগে তড়িঘড়ি রাতের রান্নাবান্না সেরে ঘরে ঢুকে পড়ার একটা তাড়া থাকত সব বাড়িতেই। প্রায় সমস্ত বাড়িতেই তখন রান্নাঘরগুলো ছিল বাড়ির বাইরের দিকে। শীতকালে আশেপাশের সমস্ত বাড়ি থেকেই তাই শীতের বিকালবেলা বেরিয়ে আসতো ধোঁয়া। সঙ্গে ধোঁয়ার গন্ধ। ভারী হয়ে ভেসে থাকত, আস্তরণ তৈরী করত আমাদের খেলার মাঠের ওপর। শীতকালে খেলতে যাবার আগে জুতো-মোজা, হলুদ-কালো হনুমান টুপির সাথে আবশ্যক ছিল বোরোলিন বা পন্ডস কোল্ড ক্রিম। সুতরাং শীতের ছোট্ট বিকেলে বাড়ির পাশের খামারে বৌবসন্ত বা পিট্টু খেলার আর বোরোলিন বা পন্ডস কোল্ড ক্রিমের গন্ধের সাথে মিশে গেছে সেই গন্ধ। ধোঁয়ার গন্ধ। অঘ্রাণে ধান কাটা হলে, আমাদের বৌবসন্ত বা পিট্টু খেলার জায়গা দখল করে তিনচারটে বাড়ির ধানের গাদা বসত খামারে। আমাদের তখন ধানের গাদার ফাঁকে ফোঁকরে লুকোচুরি খেলার দিন। আর আমাদের সাথে পাল্লা দিতে তখন সব বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়ারাও একজোট হয়ে স্তরে স্তরে কুন্ডলী পাকিয়ে ঘুরে বেড়াত ধানের গাদাগুলোর ফাঁকে-ফোঁকরে। পুরনো হিন্দি সিনেমায় স্বপ্নের দৃশ্য দেখাবার জন্য যেমন ধোঁয়ার একটা আস্তরণ তৈরী করা হয়, প্রায় তেমনি একটা দৃশ্য তৈরী হত খামারে। তফাৎটা এই যে এক্ষেত্রে ধোঁয়াটা পায়ের দিকের জায়গায় মাথার ওপরে। তার মাঝে লুকোচুরি খেলার চোরের গলায় ভেসে আসত "অমুক, এক পাঁচ"। এই "এক পাঁচ" কথাটা যে ঠিক কেন বলা হত তা আমি জানি না আজও।কথার মানে, অমুক নামের লোকটি নিজেকে আড়ালে রাখতে পারল না। আর আমি তখন অন্য আর একটি ধানের গাদার পিছনে নিজেকে লুকিয়ে রেখে ধোঁয়া আর কখনো কখনো তার সাথে মিশে আসা সরুচাকলি পিঠের গন্ধ নিচ্ছি। 
সরুচাকলি বানাতো মা। এখনো বানায়। গ্যাসের ওভেনে। তাই তাতে কখনো ধোঁয়ার গন্ধ হয় না আর। আগে মাঝে মাঝে পেতাম। সাথে দুই এক টুকরো ছোট্ট পোড়া কুটো। উনুনের অবদান। রাতের রান্না সেরে পড়ন্ত উনুনে রাখা থাকত একহাঁড়ি ভর্তি জল। ধিকিয়ে ধিকিয়ে যতটুকু উত্তাপ সে দেবে তা রাতে খাবার শেষে মুখ হাত ধোবার জন্য ওই এক হাঁড়ি জল গরম হবার পক্ষে যথেষ্ট। আর মাঝে মাঝে ওই পড়ন্ত উনুন এর পাশে বসত পড়ার আসর। উনুনের গরমে আরামদায়ক হয়ে থাকত রান্নাঘরটা।
  
কুড়ি-পঁচিশ বছর আগেকার ধোঁয়ার গন্ধমাখা শীতের বিকেলবেলার কথা আজ মনে পড়িয়ে দিল সামান্য এক চিমনির ধোঁয়া। বাইরে শীতের হাওয়া। পাশের বিল্ডিং এর চিমনি থেকে গলগলিয়ে বেরিয়ে আসছিল সাদা ধোঁয়া। উনুনের নয় নিঃসন্দেহে। এরা কাঠ পুড়িয়ে রান্না করে না আর। আমিও ছিলাম। বিকেলের খেলার সঙ্গীদের সাথে ধানের গাদায় লুকোচুরি খেলার মাঠে নয়, কোনো এক কাজ পালানো অবসরে ঢাকা দেওয়া কাগজের কাপে বিস্বাদ কফি সঙ্গী করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক কাফের কাঁচের জানলার পাশের চেয়ারে বসে। বোরোলিন-সরুচাকলি মাখা ধোঁয়ার গন্ধের বদলে বাতাসে ছিল চীজ-মায়োনিজ-কফির মিশ্র গন্ধ। তবুও কেন যে একশো কথার ফাঁকে মনে পড়ে গেল সেই ধোঁয়া মাখা বিকেলগুলোর কথা কে জানে। কফির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে দেখছিলাম গলগলিয়ে বেরিয়ে আসা ধোঁয়ারা ব্যস্ত হয়ে হুড়মুড়িয়ে উঠে যাচ্ছে ওপর দিকে। কোনো সমান্তরাল আস্তরণ তৈরী না করেই। হয়ত এখানে ধানের গাদায় লুকোচুরি খেলার কেউ নেই বলেই। হয়ত খেলতে খেলতে ধোঁয়ার সাথে সরুচাকলি পিঠের গন্ধ নেবার কেউ নেই বলেই। কে জানে।         
       

Saturday, 12 December 2015

আটপৌরে

আটপৌরে কথাটা প্রথম শিখি মায়ের শাড়ী পরা থেকে। আমার মা বাড়িতে 'আটপৌরে করে' শাড়ী পরে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম  কোথাও বেরোতে গেলে সেই শাড়ীতে কেমন করে যেন গজিয়ে উঠতো বেশ কয়েকটা কুঁচি। আর বাঁদিক এর কাঁধ থেকে ভাঁজ খেয়ে উঠে যাওয়া মাথার অর্ধেকটা চাপা দেওয়া ঘোমটাটা ডানদিকের কনুই পর্যন্ত এসে থমকে গেছে। অর্থাৎ সাধারণত ভারতীয় মহিলারা যে কয়জন এখনো শাড়ী পরেন তাঁদের সিংহভাগ এখনো যেভাবে পরেন আর কি। আর বাড়িতে থাকলে মায়ের ওই কুঁচিটা বেমালুম উধাও হয়ে যায়। আর সেই বাবদ বেঁচে যাওয়া কাপড়টা কয়েকপাক এদিক ওদিক ঘুরে সোজা বাঁকাঁধে। সেখানে থেকে আর ভাঁজ খেয়ে ঘোমটা আকারে মাথায় না উঠে বাঁদিকের পিঠ বেয়ে ডান হাতের তলা দিয়ে পাক খেয়ে আবার বাঁকাঁধে। এইটি হলো 'আটপৌরে করে শাড়ী পরা।' আটপৌরে শব্দটি আমার শেখা এখান থেকেই। ফলত এই শব্দটার সঙ্গে একটা যেমনতেমন করে থাকা বা নিজের প্রতি যত্ন না নিয়ে যাহোক করে কোনো কিছু করার একটা সংযোগ আমার মনে গেঁথে গেছিল ছোটো বয়সে। মনে আছে মাকে আমি অনেকবার বলেছি ছোটবেলায় যে কাকিমার (আমার বন্ধু রুমার মা) মতন করে শাড়ী পড়তে পারো না? মা বলত কেন পরি তো বাইরে গেলে। আমার তর্ক ছিল-'কেন? কাকিমা তো বাড়িতেও ওরকম করে পরে, তুমিও পরবে।' মায়ের যুক্তি ছিল-'এই তো বেশ আছি', বা -'এরকম করে পরে আরাম', বা 'জ্যাঠিমাদের দেখেছিস কখনো বাড়িতে ওরকম করে শাড়ী পড়তে' (আমার জ্যাঠিমারা সকলেই মায়ের মত ফর্মুলায় বা বলা ভালো মা জ্যাঠিমাদের মত একই ফর্মুলায় বাড়ি এবং বাইরের শাড়ী পরার পদ্ধতি অনুসরণ করতেন/করেন।)? কোনটিই বিশেষ জোরালো যুক্তি নয়। সুতরাং ওসব যুক্তি আমার কাছে বিশেষ গ্রাহ্য হত না। কেবলই মনে হতো শাড়ী পরার ধরনের সঙ্গে সঙ্গে মা-টিও এই বুঝি বাকিদের থেকে আটপৌরে হয়ে গেল।  হলেও যে বিশেষ লাভ ক্ষতি নেই সে হিসেব বোঝার বয়স তখন আমার হয়নি। মোদ্দাকথা 'আটপৌরে' শব্দটিই এমন একটি চোখে না পড়া-যেমনতেমন-হালকা গুরুত্বহীন চেহারা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল যে, সেই আমির পক্ষে মাকে আটপৌরের বাঁধন থেকে উদ্ধার না করলেই চলছিল না। সুতরাং সেই এক বিষয় নিয়ে মাঝে মাঝেই ঘ্যানঘ্যান করতে থাকতাম। আর মাও মেজাজ-মর্জি অনুযায়ী কখনো মুচকি হেসে কখনো এক ধমকে আমায় থামিয়ে দিত। তারপর স্কুলের শেষের দিকে কোনো এক বিয়ে বাড়িতে দেখলাম কনের খুব কাছের একজন মহিলা অত্যন্ত মহার্ঘ্য একটি শাড়ী আমার মায়ের বাড়িতে পরা সেই সাধারণ- যেমন তেমন-নজরে না পড়া শাড়ীপরার ধরণে পরেছেন, এবং বিয়েবাড়ি শুদ্ধু ফ্যাশনে অভিজ্ঞ মহিলাকুল তাঁকে উচ্চপ্রশংসা করছেন। সম্ভবত সেদিন থেকেই মায়ের শাড়ী পরা নিয়ে আমার অভিযোগ কমতে থাকলো। আর তারপর আস্তে আস্তে বড় হতে হতে 'আটপৌরে' শব্দটির আক্ষরিক এবং অন্তর্নিহিত অর্থ যত আমার কাছে পরিস্কার হতে থাকলো ততই মায়ের বাড়িতে শাড়ী পরার ধরন নিয়ে আমার অভিযোগ কমতে কমতে শেষে কখন যে উধাও হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। আর এখন তো বিয়ের কনেরাও ফ্যাশনের রাস্তায় উল্টো মুখে হেঁটে আবার পুরনো রীতি অনুসরণ করে আমার মায়ের মতন করে শাড়ী পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। সুতরাং এখন তো এ নিয়ে আমার আর কোনো কথাই নেই। তবুও এখনো আটপৌরে শব্দটা কোথাও পড়লে মায়ের এই শাড়ী পরার ধরনটি এবং সেই সংক্রান্ত আমার অভিযোগ এর কথা আমার মনে পড়ে যায়।   

মায়ের শাড়ী আর আমার ছোটবেলার ধারণা নিয়ে যখন কথা উঠলো তখন আরো একটা কথা মনে পড়ে গেল। মায়ের চিরকালের পছন্দ হালকা রঙের শাড়ী। তাই মায়ের যত্সামান্য শাড়ীর ভান্ডারের অধিকাংশই সাদা-ধূসর-বা এদের আশেপাশের চোখ আরাম দেওয়া অন্য রং এর শাড়ী। জরি-চুমকি তো নৈব নৈব চ। এদিকে আশেপাশের সকলকে দেখি বড় বড় রঙিন ফুলপাতা আঁকা-চকমকে শাড়ীতে। সেটিও আমার আরো একটা ঘ্যানঘ্যানানির বিষয় ছিল মায়ের কাছে। সেই আটপৌরে রং আর পোশাকি রং এর ঝগড়া। বাচ্চা মানুষের বুদ্ধি আর কি। বয়স এর সাথে সাথে কখন যে আমার নিজের কেনা জামা বা মায়ের জন্য কেনা শাড়ীর রংও যে সাদা-ধূসর বা এদের আশেপাশের চোখ আরাম দেওয়া অন্য রং এ বদলে গেছে নিজেও বুঝতে পারিনি।

ভালো লাগা বা কোনো একটি বিশেষ বস্তু বা বিশেষ বিষয়ের প্রতি মানুষের ধারণা বদলে যাওয়াটা শ্বাস গ্রহণ বর্জন এর মত এতটাই স্বাভাবিক ঘটনা সে কখন যে আস্তে আস্তে সে বিষয়বস্তুর প্রতি আমাদের ধারণা বদলাতে বদলাতে বেমালুম উল্টোমুখে চলতে শুরু করে যে আমরা নিজেরাই অবাক হয়ে যাই যে, কোনো এক সময় এই বিষয়টি আমরা এভাবে দেখতাম! বা বিষয়টি আমাদের চোখে এতটাই স্বাভাবিক বা আটপৌরে ছিল সে সম্পর্কে কোনদিন ভেবেও দেখার প্রয়োজন অনুভব করিনি। অথচ আজ সে বিষয়টি তার মহত্ব নিয়ে এমন ভাবে রাস্তা আড়াল করে দাঁড়িয়েছে যে এতবড় বিষয়টি থেকে কি করে এতদিন চোখ বন্ধ করে ছিলাম সেকথা ভেবে লজ্জা পেতে হয়। সে বিষয়টি তখন আটপৌরে থেকে একধাক্কায় রীতিমত পোশাকি হয়ে ওঠে। আর উল্টোদিকে এমন কিছু বিষয় নিয়ে এতদিন নিজের মধ্যেই ঘ্যানঘ্যানানি পুষে রাখতাম সে যেন রীতিমত পোশাকি ব্যাপার। বিলাসিতার মত। প্রয়োজনমতো মনের আলমারি থেকে ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা সাধের দুঃখ তুলে এনে খানিক কান্নাকাটি করে আবার তাকে তুলে রাখা। যে মুহূর্ত থেকে সত্যি সত্যি মন বুঝতে পারলো যে, বিষয়টি কেবলমাত্র পোশাকি বাহুল্য ছাড়া আর কিছু নয়, অমনি সে তার সমস্ত পোশাকিত্ব হারিয়ে ঝুপ করে বাড়ির আলনায় রাখা আটপৌরে শাড়ীটি হয়ে পড়ল। গায়ে জড়িয়ে আরাম। তখন তাতে অবলীলায় হলুদ মাখা হাত মুছে ফেলা চলে। তার পর ধীরে ধীরে রোজকারের ব্যবহারে ছিঁড়ে-রং উঠে- ঘরমোছা ন্যাতা হয়ে শেষে কবে যে মনের সংসার থেকে বিদায় নিল মন জানতেও পারল না। 

এই আটপৌরে থেকে পোশাকি আর পোশাকি থেকে আটপৌরেতে ধ্যান-ধারণার ধীর কিন্তু অবিচল পরিবর্তনের স্রোতটির সঙ্গে খাবি খেতে খেতে চলতে চলতে মনে হয়, এখনো যেসব ঋণাত্মক অনুভূতিগুলি সযত্নে ন্যাপথলিন এর টুকরো দিয়ে পোশাকি আলমারিতে তুলে রেখেছি, দরকার মত বের করে এনে বিলাসিতা করব বলে, সেগুলো হঠাত করে এক ধাক্কায় যদি জাদুমন্ত্রবলে টেনে বের করে এনে আটপৌরে আলনায় ফেলা যেত বেশ হত। জীবনের নিজস্ব নিয়মেই সে একদিন রোজকারের ব্যবহারে ছিঁড়ে-রং উঠে- ঘরমোছা ন্যাতা হয়ে শেষে কবে যে মনের সংসার থেকে বিদায় নিত মন জানতেও পারত না। ওই পোশাকিত্বের মায়া কাটিয়ে আটপৌরে আলনায় টেনে বের করে আনাটাই আসল কথা। বাকিটা আপনিই হয়ে যায়।  দেখা যাক।  

  

Sunday, 29 November 2015

চা টা খাবো

Google image থেকে 

গদাম কয় গদামি
জানি তোর বদামি।
আমরা দুটি গাধা রে
গান ধরেছি সা ধা রে।
সুরের চোটে ফাটল ছাদ
সেই থেকে সুর রইল বাদ।
সেই থেকে মন বেজায় ব্যোম
হাত পা ছুঁড়ি দমাদ্দম।
হাত পা ছুঁড়ে ভাঙ্গল কাপ
চা টা খাব কোথায় বাপ?
একটা বাটিও নেই বাকি?
ঠিক বলছ? বাপরে সেকি?
এতো দেখি বেজায় রাগ!
আচ্ছা ছাড়ো, যাক গে যাক।
এবার চল চা টা খাবো
কাপটা না হয় আমিই দেব।
সেই ভাল বেশ চলো চলো
মনটা বরং হবে ভালো।

বড় হয়ে ওঠা


অনেকদিন আগে, সম্ভবত জুন মাস নাগাদ যখন দুই এক দিনের জন্য ব্লগে কিছু লেখার চেষ্টা করেছিলাম তখন বলেছিলাম যে, ভাবনার সহজ প্রকাশ খাতায় কলমে তখনই সম্ভব যখন মস্তিস্ক-হৃদয়-আর পারিপার্শ্বিকতা সবাই একসাথে কোরাস গাইতে পারে। কোনভাবেই সেই কোরাস গানটিকে একসুরে বেঁধে উঠতে পারা যাচ্ছিল না এতদিন। ইদানিং পালে খানিক অনুকূল হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। জানিনা এই মনে হওয়াটা কতখানি ঠিক। সবটাই আশা করে থাকা মনের ভ্রম, যা অদূর ভবিষ্যতে আবারও ভুল প্রমানিত হতে চলেছে? নাকি সত্যি সত্যি গা ঝেড়ে উঠে দাঁড়াবার সময় এসেছে? ভবিষ্যত এর ভাবনা তুলে রেখেই বলি, যাই হোক না কেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খানিকটা লেখালেখি করা যেতেই পারে। অন্তত মন তাতে বিশেষ বাগড়া দেবে বলে মনে হয় না। বেশ কিছু ঋণাত্মক তরঙ্গের ধাক্কা খেয়ে বেসামাল হয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পড়তেও সামাল সামাল বলে সামলে নেওয়া গেছে। তাতে হাত পা ছড়ে-কেটে গেছে হয়ত কিন্তু বড়সড় স্থায়ী ক্ষতি আটকানো গেছে। তাতে চির-অস্থির ঢেউ এর ওপর রাগ হয়েছে। এবড়ো-খেবড়ো সাগরতটের ওপর হতাশায় লাথি কষাতে ইচ্ছে হয়েছে। সব ছেড়ে দিয়ে সাগর পাড়ি দেবার ইচ্ছে ত্যাগ করে ডাঙার নিসংশয় জীবন কাটাবার মতন আত্মবিরোধী ইচ্ছে পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু সত্যিটা এই যে শেষ পর্যন্ত টিকে গেছি। 

চেষ্টা করলে হয়ত প্রতিটি মানুষের সমস্ত জীবনকালটিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগে ভাগ করা যায়। সে তিনি যতই বিখ্যাত বা অখ্যাত ব্যক্তি হন না কেন। বিখ্যাতদের জীবনের সেইসব অখ্যাত অধ্যায় থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াবার প্রেরণা পাই। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাহস পাই। সেই সব ধাক্কা খাওয়া অধ্যায় থেকে আমরা আমাদের ওপর এসে পড়া ঢেউ এর ধাক্কা সামলে বড় হয়ে উঠি। প্রতিটি মানুষের জীবনেই বড় হয়ে ওঠার এরকম অধ্যায়গুলি আসে আর তার ধাক্কা সামলাতে সামলাতে একটা লাভ হয় যে মানুষটি সত্যিকারের প্রফেশনাল-প্রাকটিক্যাল-আর বাইরের পৃথিবীর জন্য সে সন্দেহশীল হয়ে ওঠে। 

এই লেখাটি হয়ত কিছুটা স্বগতোক্তি। হয়ত কিছুটা ব্যক্তিগত, এখানে লেখার বিষয় নয়। তাও লিখছি। আমি দেখেছি আমার কখনো খুব খারাপ কিছু হয় না। খুব টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে হয়ত যেতে হয়েছে। অকারণে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি কিছু হয়নি। হয়ত আমি বিশ্বাস করি যে আমার কোনো বড় ক্ষতি হতে পারে না, বা যেকোনো খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার প্রানপণ একটা চেষ্টা থাকে বলেই হয়ত বাইরে থেকে বড়সড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। যাই হোক না কেন, এরকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়না বা হয়নি এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। স্বেচ্ছায় সমতল ছেড়ে যাঁরা হিমালয় এর শোভা দেখার মনস্থির করেছেন তাঁদের জন্য যে কম বেশি প্রতিকূলতা অপেক্ষা করেই সেতো বলাই বাহুল্য। আর এইসবের ভালো দিকটি এই যে, মানুষ চিনতে পারা-দেহ মনের শান্তি বিঘ্নিতকারী মানুষদের থেকে সযত্নে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া-মেরুদন্ডহীন স্বার্থসর্বস্ব মানুষদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের অন্যায় কৃতকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস অর্জন করা-নিজের সামান্য লাভের আশায় এদের অন্যায়কে সহ্য না করার সহজ শক্তি যে নিজের মধ্যে আছে তাকে চিনতে পারা- আর তার ফলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। আর সবচেয়ে বড় কথা, মেরুদন্ড সোজা রেখে, মিথ্যাবাদীর চোখে চোখ রেখে সত্যিকথা বলার সাহস থাকার অপরাধে আশেপাশের সমাজে যে অপবাদ ছড়াবার কথা সেই কথা আর সমস্ত বিপ্রতীপ মানুষজন কে অনায়াসে পাত্তা না দিয়ে পাখির চোখের মত নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার মতন বুকের পাটা তৈরী হয়ে যাওয়া। 

সুতরাং, প্রতিকূলতা কারো জীবনেই কখনোই হয়ত কাম্য নয়। কিন্তু যদি তা এসেই যায়, তাকে বুক দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে গিয়ে প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে বুক চিতিয়ে সামনে দাঁড়াবার মতন একটা পাথুরে বুক যে তৈরী হয়ে যেতে পারে সেটিও কম লাভ নয়। সেটাই হয়ত সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করার জন্য সদ্যবিলীয়মান কিছু পরিস্থিতির প্রয়োজন ছিল আমার 'বড় হয়ে ওঠার জন্য।'

Friday, 10 July 2015

মেঘলা দিনে




মেঘলা দিনে নরম হয়ে আসে মেঘলা মন
কেমন নরম জানো?
দুহাতের পাতায়
একমাস বয়সের কাঠবেড়ালীর ছানাকে
ধরে দেখেছ কোনোদিন?
ঠিক সেরকম।

হাতের মধ্যে থরথর করে কাঁপতে থাকে সে,
পালকের মত তিরতিরে লেজটা সিঁটিয়ে যায়
ভয়ে-অনিশ্চয়তায়।

তারপর ধীরে ধীরে
হাতের ওম পেয়ে
কখন যেন নির্ভর করতে শুরু করে হাত দুটিকে।
শিথিল হয়ে আসে তার ভয়াতুর তিরতিরে লেজ।
পাতলা আঙ্গুল দিয়ে জড়িয়ে নেয় আঙ্গুল।
মুখ নামিয়ে দেয় হাতের উপর
পিঠের তিনটে রেখায় আঙ্গুল বোলালে
পরম নিশ্চিন্ততায় চোখ বোজে,
আবেশে।

মেঘলা দিনে যেরকম শিরশিরে ভেজা হাওয়ায়
স্তব্ধ হয় ভাবনা।
আর তারপর
অঝোর ঝরা বৃষ্টিতে আধভেজা হতে হতে
পরম নিশ্চিন্তে মাথা রাখা যায় জানলায়
আর সমস্তকিছুকে সরিয়ে রেখে।     


আজ বৃষ্টি হয়েছে। অঝোরে। সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সে। অনেকদিনপর। অনেক সময় নিয়ে।      

Wednesday, 24 June 2015

Multitasking

Multitasking ব্যাপারটা শুনতে যতটা কঠিন লাগে ব্যাপারটা আদতে তার চেয়ে শতগুণ বেশি কঠিন। এই আপ্তবাক্যটি আমি সম্প্রতি আবিষ্কার করেছি। বলা ভাল নিজের দৈনন্দিন জীবন দিয়ে বুঝতে শিখেছি বা শিখছি। এতদিন Multitasking বলতে বুঝতাম ল্যাবে তিনটে এক্সপেরিমেন্ট একসাথে করে ফেলার চেষ্টা করা বা বাড়িতে মাছ ভাজা করতে করতে গত দশদিনের ঝাঁট না পড়া ঘরের মেঝেতে ঝাঁটা বুলিয়ে ফেলা বা প্রেসার কুকারে খিচুড়ি চাপিয়ে সেই খিচুড়ি না পুড়িয়ে ফেলে আস্ত একটা সিনেমা দেখে ফেলার মতন কাজ বুঝি। ফলে এযাবৎকাল এই জাতীয় মহান কাজকর্ম একসাথে করে ফেলতে পেরে “ওরে এ তো দারুণ multitasking”- বলে গলা ফুলো পায়রা হয়ে ঘুরে বেড়াতাম। এখন বুঝছি ব্যাপারটা এতটাও বোধহয় ইয়ে নয়। যখন ল্যাবের তিনটে এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটা হল “চন্দ্রবিন্দুর চ, বেড়ালের তালব্য শ আর রুমালের মা” তখন তার থেকে ‘চশমা’ বানানোটা যে কি বিপুল ঝকমারির কম্ম তা যেকোনো রিসার্চ ল্যাবে বছর তিনেক কাটানো যেকোনো হতভাগ্যই জানেন। আর তার সাথে যদি থাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার রক্তচক্ষু তবে তো ব্যাপারটা আর বেশ রসস্থ হয়ে ওঠে। আর তার সাথে যদি যোগ হয় নিজের ভবিষ্যত দর্শনের বৃথা চেষ্টা তাহলে তো সোনায় সোহাগা, দিগ্বিদিকে অন্ধকার। এবং এখানেও শেষ না হয়ে বেয়াড়া মাথা যদি বলে আমার বিনোদনের খোরাকটি গেল কই? ফলে আরও একশো রকম বিষয়ে পড়াশুনা-আলোচনা, আলুভাজা খেতে খেতে একশো রকম ভাবে ব্রেনস্টর্মিং ইত্যাদি। সাথে আবার মনের বায়নায় তার বিনোদনের ব্যবস্থার কথাটিও ভুললে চলে না। নইলে আবার মন আর মাথার ঝগড়ায় মন বা মাথা সমস্ত কাজই ভুন্ডুল হতে বসে। এত কিছুর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সমস্ত কিছু থেকে সঠিক সময় মন সরিয়ে এনে সেই মুহূর্তের বর্তমান বিষয়টিতে মনোনিবেশ করা। কিন্তু বাকি বিষয়গুলিকেও ভুলে গেলে চলে না। সঠিক সময়ে সমস্ত মন মাথা নিয়ে সেখানে ফিরে আসার কথাটিকে মস্তিস্কের কোন একটি কুঠুরিতে সযত্নে লালন করা চাই। অর্থাৎ ঘরের মেঝেতে ঝাঁটা বোলাতে বোলাতে মাছভাজার কথা ভুলে গেলে সেদিন আর ভাতের সাথে মাছটি জুটলো না। আবার সম্পূর্ণ মাথাটি মাছের দিকে থাকলে ঘরের এদিক ওদিক রয়ে যায় ধুলোর পরত। আমার যেমন মাছ ভাজতে গেলে মনে পড়ে ঘরটা না পরিস্কার করলেই নয়। উশখুশ করতে করতে যেই না ঝাঁটা হাতে নিলাম, অমনি সাঁ করে মন হতভাগা ঝাঁপ মারলো মাছের কড়াইতে। ফলে যা হয়- না হল ঠিক করে মাছ ভাজা, না হল ঠিক করে ঘর পরিস্কার করা। দুপুরে আধপোড়া বা আধকাঁচা মাছ দিয়ে ধুলো কিচকিচ ঘরের মেঝেতে বসে ভাত খেতে হল। উপরি পাওনা ঠিক সময়ে ঠিক কাজ না করায় মন খুঁতখুঁত- বুক দুড়দুড়- জীবনটাকে একবাটি ভর্তি কালমেঘ পাতার রস ছাড়া আর কিছু মনে না হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। দুইয়ের মাঝে সঠিক ব্যালান্সই যে হল আসল multitasking সেটি এই বুড়ো হয়ে তবে একটু একটু বুঝতে পারছি। আগে তো পুরোটা হৃদয়ঙ্গম করে উঠি তবে তো চেষ্টা করে করে একটু একটু multitasking করার কথা ভাবা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্ণ মনোনিবেশ আর নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট বিষয় থেকে সাময়িক ভাবে মন তুলে নিয়ে পরবর্তী নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে আমার তো অন্তত এখনও ল্যাজেগোবরে অবস্থা। দেখা যাক। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এই চেষ্টাটা অন্তত শুরু করে উঠতে পেরেছি বলে অন্তত নিজের চোখের দিকে আয়নায় তাকাতে পারা যাচ্ছে। অপরাধবোধ খানিক কম কম বলেই মনে হচ্ছে, তাই হয়ত প্রাণে খানিক হাওয়া লেগেছে। অবশ্য প্রাণে বাতাস লাগার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ঘটেছে। এক, মৌসুমি বাতাসের অক্ষরেখা উত্তরপ্রদেশের মাঠঘাট ছাপিয়ে হরিয়ানা ছুঁই ছুঁই হয়ে এসেছে। তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর খটখটে হরিয়ানায় বসে থাকা বর্ষা ভেজা সবুজ জল ছপছপ বঙ্গে বড় হওয়া মানুষের কাছে এর চেয়ে ভাল খবর আর কি হতে পারে? আর দুই নম্বর কারণটা হল এই যে, আমরা কাল আবার দুজনে লোটা কম্বল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছি তিন-চার দিনের জন্য। এবারের গন্তব্য কুমায়ুন পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা-মুক্তেশ্বর। আমাদের বেড়ানোর রুটিন মেনে কালকে যথারীতি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস ঘোষিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে।


এর পরেও প্রাণে বাতাস না লেগে পারে?